আলস চোখের চিকিৎসা Lazy Eye / Amblyopia Treatment বিষয়ে একটি বিস্তারিত বাংলা আর্টিকেল


🧿 আলস চোখ (Lazy Eye / Amblyopia) – কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

🩺 আলস চোখ কী?

আলস চোখ বা অ্যাম্বলিওপিয়া (Amblyopia) হলো চোখের এমন একটি অবস্থা, যেখানে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হয় না। অর্থাৎ চোখটি গঠনগতভাবে ঠিক থাকলেও মস্তিষ্ক সেই চোখ থেকে আসা ছবি ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না। ফলে এক চোখ স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারে, আর অন্য চোখ “আলস” হয়ে যায়।


কারণ

আলস চোখের মূল কারণ হলো শিশু বয়সে দুই চোখের দৃষ্টি শক্তির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা।
এর প্রধান কারণগুলো হলঃ

  1. 👁 চোখের পাওয়ারের পার্থক্য (Refractive Amblyopia) – এক চোখের পাওয়ার বেশি বা কম থাকলে মস্তিষ্ক দুর্বল চোখের তথ্য উপেক্ষা করে।
  2. 👀 চোখ কানা বা স্কুইন্ট (Strabismic Amblyopia) – চোখ দুইটি একসাথে ফোকাস না করলে একটি চোখের ব্যবহার কমে যায়।
  3. 🩹 দৃষ্টিতে বাধা (Deprivation Amblyopia) – জন্মগত ছানি, চোখের পাতা ঢেকে থাকা বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে চোখে আলো না পৌঁছালে।

লক্ষণ

এক চোখে ঝাপসা দেখা

চোখ একদিকে হেলে থাকে

গভীরতা অনুভব করতে সমস্যা (Depth perception কমে যাওয়া)

শিশুদের ক্ষেত্রে পড়াশোনা বা খেলায় মনোযোগের ঘাটতি

মাঝে মাঝে চোখ কানা হয়ে যাওয়া


🧠 নির্ণয়

অ্যাম্বলিওপিয়া সাধারণত ৫–৭ বছর বয়সের মধ্যে ধরা পড়ে।
অপ্টোমেট্রিস্ট বা চক্ষু বিশেষজ্ঞ নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করেনঃ

ভিশন একুইটি টেস্ট (Vision Test)

কভার টেস্ট (Cover Test)

রিফ্র্যাকশন টেস্ট

ফান্ডাস ও চোখের গঠন পরীক্ষা


চিকিৎসা

আলস চোখের চিকিৎসা শিশু বয়সেই সবচেয়ে কার্যকর, তবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও কিছু আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নতি সম্ভব।

👓 1. পাওয়ার ঠিক করা

চশমা বা কন্টাক্ট লেন্সের মাধ্যমে দুই চোখের পাওয়ার সমান করে দৃষ্টি ভারসাম্য আনা হয়।

🎮 2. ভিশন থেরাপি (Vision Therapy)

কম্পিউটার-ভিত্তিক এক্সারসাইজ, আই ট্রেনিং ও কো-অর্ডিনেশন এক্সারসাইজের মাধ্যমে দুই চোখকে একসাথে কাজ করতে শেখানো হয়।
বাংলাদেশে RefocusBD Vision Therapy Centre সহ কয়েকটি আধুনিক ক্লিনিকে এই থেরাপি দেওয়া হয়।

🧬 3. নিউরোভিশন থেরাপি / ডিজিটাল ট্রেনিং

নতুন প্রযুক্তিতে মস্তিষ্ক ও চোখের সংযোগ উন্নত করা হয়।

🪄 4. সার্জারি (যদি চোখ কানা থাকে)

যদি স্কুইন্টের কারণে অ্যাম্বলিওপিয়া হয়, তবে চোখ সোজা করার জন্য সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।


🧒 প্রতিরোধ

জন্মের পর থেকেই শিশুর চোখের নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

৩–৫ বছর বয়সে প্রথম পূর্ণ চক্ষু পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

কোনো চোখ ঢেকে থাকে, হেলে থাকে বা ঝাপসা দেখলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


উপসংহার

আলস চোখ যত তাড়াতাড়ি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। আধুনিক ভিশন থেরাপি ও নিয়মিত প্যাচ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধার সম্ভব।

Optom Rakib Hasan
clinical Optometrist & Vision Therapist
Master’s in Optometry
Bachelor’s in Optometry
Diploma in Medical Faculty (DMF)
Bashundhara Eye Hospital & Research Institute
BM&DC Registration No: D 12803
what’s app : +88 01826608842